Blog Detail

হজের সফরে অবসর সময়: ইবাদতের সোনালী সুযোগ

হজ এমন এক মহান ইবাদত, যার প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। সাধারণত হজের সফর প্রায় ৪০ দিনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে 

মদিনায় ৮–৯ দিন এবং মাশায়েরে (মিনা, আরাফা, মুযদালিফা) ৫–৬ দিন মূল কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে হয়। বাকি সময়গুলোই একজন হাজীর জন্য মূল্যবান অবসর, যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে হজের প্রকৃত সৌন্দর্য ও পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব।

Table of Contents

হজ শুরুর আগের ইবাদত
    • ১. বেশি বেশি তাওয়াফ করা
    • ২. নফল উমরাহ আদায়
    • ৩. যিয়ারাহ (ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ)
    • ৪. সালাত, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির
    • ৫. তাওবা ও আত্মসমালোচনা

হজ শুরুর আগের ইবাদত

নিম্নে কুরআন ও হাদীসের আলোকে হজ শুরুর আগের অবসর সময়ে করণীয় গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ তুলে ধরা হলো:

১. বেশি বেশি তাওয়াফ করা

 তাওয়াফ এমন একটি ইবাদত যা শুধু বাইতুল্লাহতেই সম্ভব। প্রতিটি পদক্ষেপে গুনাহ মাফ ও নেকি বৃদ্ধি পায়।

রাসূল ﷺ বলেন:

“যে ব্যক্তি এই ঘর (কাবা) সাতবার তাওয়াফ করে এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, সে যেন একটি গোলাম আযাদ করল।” (ইবনে মাজা)

অন্য হাদীসে এসেছে:

“তাওয়াফ নামাজের মতো, তবে এতে কথা বলা বৈধ।” (তিরমিযী)

ভিড় এড়াতে রাত বা অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি সময় বেছে নেওয়া উত্তম।

২. নফল উমরাহ আদায়

নফল উমরাহ আদায় সক্ষম ব্যক্তির জন্য একাধিক উমরাহ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“এক উমরাহ থেকে আরেক উমরাহ মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়।” (সহীহ বুখারী, মুসলিম)

আরও এসেছে:

“হজ ও উমরাহ অব্যাহত রাখো, কেননা তা দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে।” (তিরমিযী)

তবে অতিরিক্ত কষ্ট না নিয়ে শরীরের সক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি।

৩. যিয়ারাহ (ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ)

মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভিজিট করলে ঈমান বৃদ্ধি পায়।

কুরআনে আল্লাহ বলেন:

“তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখো পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছে।” (সূরা রূম: ৪২)

তবে যিয়ারার নামে অতিরিক্ত ঘোরাফেরা করে ইবাদতের সময় নষ্ট করা ঠিক নয়।

৪. সালাত, কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির

হারাম শরীফে এক রাকাত নামাজের সওয়াব বহু গুণ বেশি।

কুরআনে আল্লাহ বলেন:

“আমার স্মরণেই তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদের স্মরণ করব।” (সূরা বাকারা: ১৫২)

রাসূল ﷺ বলেন:

“যে ব্যক্তি আল্লাহর ঘরে (মসজিদে) বসে কুরআন তিলাওয়াত করে ও তা শিক্ষা করে, তার উপর শান্তি নাযিল হয়।” (মুসলিম)

তাই ফরজের পাশাপাশি নফল, তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত এবং অধিক যিকির-আযকারে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত।

৫. তাওবা ও আত্মসমালোচনা

হজ জীবনের একটি নতুন সূচনার সুযোগ।

কুরআনে আল্লাহ বলেন:

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা কর।” (সূরা তাহরীম: ৮)

গীবত, সমালোচনা ও অহেতুক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। নিজের অতীত ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে তাওবা করে ভবিষ্যতের জন্য সৎ সংকল্প নেওয়া উচিত।

সর্বশেষে বলা যায়, হজের এই সফর জীবনে বারবার আসে না। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করে ইবাদতে ব্যয় করাই একজন সচেতন হাজীর পরিচয়। অযথা আড্ডা বা দুনিয়াবি কাজে সময় নষ্ট না করে আল্লাহর স্মরণে সময়কে রাঙিয়ে তোলা উচিত।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হজের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদতে পরিপূর্ণ করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের হজ কবুল করুন। আমীন।

We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience. learn more

Allow